প্রতিভা ও দক্ষতায় আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়েছিলেন সাংবাদিক এস এম আলী
সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক এস এম আলী (সৈয়দ মোহাম্মদ আলী)। প্রতিভা ও দক্ষতার কারণেই তিনি এমনটা হতে পেরেছিলেন। তিনি মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য কাজ করে গেছেন।ডেইলি স্টারের উদ্যোগে 'এস এম আলীর সাংবাদিকতা ও বিশ্ববীক্ষা' শীর্ষক 'ইতিহাস আড্ডা' অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রখ্যাত সাংবাদিক এস এম আলীর জন্মদিন ছি...
সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক এস এম আলী (সৈয়দ মোহাম্মদ আলী)। প্রতিভা ও দক্ষতার কারণেই তিনি এমনটা হতে পেরেছিলেন। তিনি মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য কাজ করে গেছেন।
ডেইলি স্টারের উদ্যোগে 'এস এম আলীর সাংবাদিকতা ও বিশ্ববীক্ষা' শীর্ষক 'ইতিহাস আড্ডা' অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় অবস্থিত দ্য ডেইলি স্টার সেন্টারে এ অনুষ্ঠান হয়। প্রখ্যাত সাংবাদিক এস এম আলীর জন্মদিন ছিল গতকাল শনিবার ৫ ডিসেম্বর।
বক্তারা আরও বলেন, এস এম আলী সিদ্ধান্ত নিয়েই সাংবাদিক হয়েছিলেন। অনেকে নানা কিছু করে পরিস্থিতির শিকার হয়ে সাংবাদিক হন। এস এম আলী সে ধরনের সাংবাদিক ছিলেন না, সচেতনভাবে সাংবাদিকতা পেশা হিসেবে বেছে নেন। ফলে অনেক অভাব-অনটনেরও মুখোমুখি হন তিনি। যেটা তার পারিবারিক-সামাজিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যায় না।
অনুষ্ঠানে দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম বলেন, সাংবাদিক হিসেবে এস এম আলীর বিশ্বখ্যাতি ছিল, বিশেষ করে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ায়। তিনি ব্যাংকক পোস্ট ও দ্য হংকং স্ট্যান্ডার্ডের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন। আরও কয়েকটি পত্রিকায় কাজ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিক ব্যক্তিত্ব এস এম আলী ছাড়া আর কেউ নেই। থাকলেও হয়তো আমি জানি না। নিশ্চয়ই এস এম আলীর এমন প্রতিভা-দক্ষতা ছিল বলেই ব্যাংকক পোস্ট ও হংকং স্ট্যান্ডার্ডের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হয়েছিলেন।
এস এম আলীর শেষ ও শ্রেষ্ঠ উদ্যোগ অর্থাৎ ডেইলি স্টার প্রতিষ্ঠায় তার সহযোগী হওয়ার জন্য নিজেকে গর্বিত মনে করেন মাহফুজ আনাম। এ সময় তিনি এস এম আলীর সঙ্গে তার কিছু স্মৃতির কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক ছিলেন নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর। তিনিও এস এম আলী সঙ্গে কাজ করেছেন।
নূরুল কবীর বলেন, এস এম আলী সচেতনভাবেই সাংবাদিক হতে চেয়েছিলেন। এটা তার জীবনের সচেতন সিদ্ধান্ত। তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছিলেন। সাধারণত ওই সময়ে যারা ইংরেজি, অর্থনীতি, ইতিহাসে পড়তেন, তাদের মধ্যে যারা ভালো ছাত্র-ছাত্রী ছিলেন, তাদের অধিকাংশই সিএসপি (সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান) হতেন। এস এম আলীর পক্ষে পাকিস্তানের বড় কর্মকর্তা হওয়া কোনো দুঃসাধ্য ছিল না।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকতাকে ফলপ্রসূ করতে এস এম আলী মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য কাজ করে গেছেন।
এ বিষয়ে নিজের একটি কলামের প্রসঙ্গ টেনে নূরুল কবীর বলেন, সেই লেখার সঙ্গে তিনি একমত না হলেও ছাপতে দিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত ফারুক সোবহান, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান ও ডেইলি স্টারের যুগ্ম সম্পাদক আশা মেহরীন আমিন। তারা সবাই এস এম আলীর কর্মময় জীবনের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইমরান মাহফুজ। অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী লাইসা বিনতে কামাল।