রাজধানীর কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউয়ে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে বর্বরোচিত হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে।

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ হামলার সূত্রপাত।

এএফপি, রয়টার্স, দ্য স্ট্রেইটস টাইমস, বিবিসিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে জ্বলন্ত পত্রিকা অফিসের ভেতরে সাংবাদিকদের আটকা পড়া, প্রকাশনা সাময়িক বন্ধ থাকার এবং বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, হাদির মৃত্যুর পর ঢাকায় অন্তত তিনটি বড় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো ভবনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জায়মা ইসলাম এএফপিকে জানান, তিনি জ্বলন্ত ভবনের ভেতর আটকা পড়েছেন। ফেসবুকে তিনি লেখেন, 'আমি শ্বাস নিতে পারছি না। প্রচুর ধোঁয়ার ভেতরে আমি। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছ।'

রাত ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপরও ২৭ কর্মী ভবনের ভেতরে আটকা ছিলেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, হাদির মৃত্যুর খবর জানার পর বিক্ষোভ শুরু হয় এবং বিক্ষোভের মধ্যে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়, ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কর্মীরা নিচে নামতে পারছিলেন না। রাত ১টা ৪০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ রয়টার্সকে বলেন, পত্রিকাটির দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম প্রকাশনা বন্ধ করতে হয়েছে।

বিবিসি আক্রান্ত পত্রিকার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অফিসগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হলে তারা ধোঁয়ায় 'নিশ্বাসের জন্য ছটফট' করছিলেন। 

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকশ হামলাকারী ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো অফিসে হামলা চালালে কর্মীরা ছাদে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন

কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ বিবিসিকে বলেন, তার ২৮ সহকর্মী কয়েকঘণ্টা ছাদে আটকা ছিলেন। অতিরিক্ত সেনাসদস্য আসার পর তাদের উদ্ধার করা হয়। 

বিবিসিতে আরও বলা হয়, ৩৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শুক্রবার দ্য ডেইলি স্টার শুক্রবার পত্রিকা বের করতে পারেনি।

সিঙ্গাপুরের দ্য স্ট্রেইটস টাইমস জানিয়েছে, ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর অগ্নিসংযোগকারীরা বাংলাদেশের বড় সংবাদপত্রগুলোকে টার্গেট করে। ভেতরে আটকে পড়া সাংবাদিকদের জ্বলতে থাকা ভবন থেকে বের করে ফায়ার সার্ভিস।

প্রতিবেদনে ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জায়মা ইসলামের ফেসবুক পোস্ট উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে ভবনের ভেতরে তার নিশ্বাস নিতে না পারার পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টসের উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে সহিংসতায় তারা উদ্বিগ্ন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা শুধু গণমাধ্যম নয়, ছায়ানটের মতো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানেও হামলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাদির মৃত্যুর পর রাতে দ্য ডেইলি স্টারসহ দুটি পত্রিকার অফিসে হামলা হয়। প্রায় ১০০-২০০ লোক গেট ভেঙে নয় তলা ভবনে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আরেকটি দল প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

এনডিটিভি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের হামলায় বাংলাদেশের শীর্ষ সংবাদপত্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হয়েছে, কয়েকশ বিক্ষোভকারী প্রথম আলো অফিস ঘেরাও করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তারা দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিক্ষোভকারীরা ভবনে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়ায় সংবাদকর্মীরা ছাদে উঠে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।