সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান ৪ সংগঠনের
দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে নিপীড়নের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি), বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস) ও বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম)।এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের বিচার, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এসব...
দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে নিপীড়নের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি), বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ (বিএসপিপি) চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস) ও বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম)।
এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলাকারীদের বিচার, গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এসব দুষ্কর্মে উসকানি দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আজ শনিবার বিবৃতি দিয়েছে সংগঠনগুলো।
বিবৃতিতে বিজেসি জানায়, এই সহিংস কর্মকাণ্ড শুধু আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতিই নয়, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বীকৃত অধিকারেও বড় আঘাত।
বিশেষ করে একজন জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতিকে প্রকাশ্যে হেনস্তার ঘটনা জাতির জন্য লজ্জাজনক।
ভিন্নমতের দায়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অতীতে মিথ্যা হত্যা মামলা, বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার এবং যার সর্বশেষ শিকার আনিস আলমগীর—এবং বিনা বিচারে দীর্ঘদিন কারাগারে আটক রাখার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয় বিবৃতিতে।
এ ধরনের পদক্ষেপ ভয় ও দমনমূলক সংস্কৃতিকে নতুন করে ফিরিয়ে আনবে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্র সংকুচিত করবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সব ধরনের দমনমূলক ব্যবস্থা বন্ধের দাবি জানালেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে কারও বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াকে স্বাগত জানায় বিজেসি।
বিএসপিপি চট্টগ্রামের আহ্বায়ক জাহিদুল করিম কচি ও সদস্য সচিব ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গণমাধ্যমের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।
সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী ও ছায়ানটের ওপর সংঘটিত হামলারও তীব্র নিন্দা জানায় সংগঠনটি। স্বাধীন গণমাধ্যমকে কণ্ঠরোধ করে কখনোই আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরের হেনস্তার শিকার হওয়া একটি বিশেষ মহলের 'সুপরিকল্পিত এজেন্ডার' অংশ বলে তারা মনে করেন।
দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় বিএসপিপি চট্টগ্রাম।
বিবৃতিতে চবিসাস জানায়, এই ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আক্রমণ। যারা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সহ্য করতে পারে না, তারাই কলমের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। ভয় দেখিয়ে সত্যকে থামানো যাবে না।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করে কেউ গণতন্ত্রের ধারক হতে পারে না। সাংবাদিক সমাজ ভয়ভীতির কাছে মাথা নত করবে না এবং সত্য প্রকাশে কখনো নীরব থাকবে না।
অবিলম্বে আক্রমণের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।
একই সঙ্গে সাংবাদিক, সম্পাদক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
একদিনের বিরতির পর দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর প্রকাশনা পুনরায় শুরু হওয়াকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশি জার্নালিস্টস ইন ইন্টারন্যাশনাল মিডিয়া (বিজেআইএম)।
একে বাংলাদেশের স্বাধীন গণমাধ্যমের দৃঢ়তা ও সহনশীলতার প্রতীক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, আগের দিনের ধাক্কা ও অনিশ্চয়তার পর পত্রিকাগুলোর আবার ছাপায় ফিরে আসা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পুনরারম্ভ নয়; বরং এটি শক্তিশালী বার্তা দেয় যে—ভয়ভীতি, ভাঙচুর কিংবা আতঙ্কের মাধ্যমে সাংবাদিকতাকে স্তব্ধ করা যাবে না।