দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি দৈনিক পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো বন্ধ করা এবং 'বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের জন্য' বাম, শাহবাগি, ছায়ানট ও উদীচীকে তছনছ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় ইসলামী ছাত্রশিবির তাদের দুই নেতার কাছে লিখিত জবাব চেয়েছে এবং তারা এর জবাব দিয়েছেন।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম আজ সোমবার বিকেলে দ্য ডেইলি স্টারকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

সাদ্দাম বলেছেন, রাকসুর ভিপি ও শাখা শিবিরের সভাপতি মোস্তাকুর রহমান এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাবি শাখার সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান ইতোমধ্যে তাদের দেওয়া বক্তব্যের কারণ উল্লেখ করে লিখিত জবাব দিয়েছেন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্য দিলে তাদের বিরুদ্ধে 'সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা' নেওয়া হবে বলে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতের খবর ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে দেশের শীর্ষস্থানীয় বাংলা দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে বলে ঘোষণা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ও শিবির নেতা মোস্তাকুর রহমান।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার সেক্রেটারি মোস্তাফিজুর রহমান বলেছিলেন, 'আগামীকাল (গত শুক্রবার) বাম, শাহবাগি, ছায়ানট, উদীচীকে তছনছ করে দিতে হবে, তাহলেই বাংলাদেশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হবে।'

ওই দুই নেতার বক্তব্যের ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল।

দুই শিবির নেতার এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের শনিবার রাতে ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটা আমাদের বক্তব্য না। আমরা এগুলো বিশ্বাস করি না।'

তাহের আরও বলেন, 'আমার নলেজে এটা আসে নাই। আপনি আমাকে বক্তব্যের কপি পাঠান। আমি বিষয়টা দেখছি। শিবিরের সভাপতির সঙ্গে আমি কথা বলছি।'

জামায়াতের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা পাওয়ার পর দুই শিবির নেতার কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয় বলে জানান সাদ্দাম। বলেন, 'সেই জবাব, ব্যাখ্যা তারা আমাদের পাঠিয়েছে। বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে তারা যেন সর্বোচ্চ সতর্ক থাকে, সে ব্যাপারে আমরা তাদের অ্যালার্ট করেছি।'

লিখিত জবাবে দুই শিবির নেতা কী বলেছেন জানতে চাইলে সাদ্দাম আরও বলেন, 'লিখিত জবাবে তারা বলেছে যে এটা ভুল হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে যেহেতু প্রথম আলো-ডেইলি স্টার আমাদের পজিটিভ কোনো কিছু নিয়েই নিউজ করে না, আমাদের বিপক্ষে যত ধরনের নেগেটিভ প্রোপাগান্ডা সবকিছুই তারা করে, এইরকম একটা জায়গা থেকে তারা এসব কথা বলেছে।'

সাদ্দামের ভাষ্য, 'হামলা বা এই জাতীয় কার্যক্রমকে আমরা কখনোই সাপোর্ট করি না। তারা (দুই শিবির নেতা) বলেছে (পত্রিকা) বন্ধ করতে হবে। হামলার বিষয়গুলো তো বক্তব্য থেকে আসেনি। এটা তারা ক্ষোভের জায়গা থেকে বলছে।'

লিখিত বক্তব্যে দুই শিবির নেতা বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবেন বলে উল্লেখ করেছেন বলেও জানান সাদ্দাম। তিনি বলেন, 'আমরাও তাদের বলেছি আগামীতে এমন কিছু হলে তাদের বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

গণমাধ্যমে হামলার দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর 'ষড়যন্ত্রের' প্রতিবাদ

আজ ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক যৌথ বিবৃতিতে শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাতকে কেন্দ্র করে ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলার দায় পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বিবৃতিতে বলেছেন, 'বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সব সময় গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা মনে করি, গণমাধ্যমের ওপর যেকোনো ধরনের হামলা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ছাত্রশিবির কখনোই সমর্থন করে না।

'অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো—একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে দৈনিক ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের দায় ছাত্রশিবিরের ওপর চাপিয়ে দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।'

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতি ও রাকসু ভিপি এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারির ব্যক্তিগত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের ওপর দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলো ছিল সম্পূর্ণ তাদের ব্যক্তিগত। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা নিজ নিজ বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং বক্তব্যের ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত 'স্লিপ অব টাং'-এর বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এটা ছাত্রশিবিরের কোনো অফিসিয়াল বক্তব্য বা অবস্থান নয়।

'আমরা স্পষ্ট ঘোষণা করছি, গণমাধ্যমে কিংবা কোনো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার সাথে ছাত্রশিবির দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি এই ধরনের হামলার ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।'

বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট ঘটনার নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত দাবি করা হয়।